দিনাজপুরে বানিয়াচংয়ের জাবিদুরের মৃত্যু ঘিরে রহস্য
প্রধান প্রতিবেদক: ঢাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার যুবক জাবিদুর রহমান (২৩)। ২৭ জুন গাজীপুরে যাওয়ার কথা বলে ঢাকার মেস থেকে বের হওয়ার দুদিন পর তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেললাইনের পাশে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়— পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে।
বানিয়াচংয়ের পূর্বগড় মহল্লার বাসিন্দা, প্রয়াত সিদ্দিক উল্যার ছেলে জাবিদুরের পরিচয় মেলে পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে। ২৯ জুন বানিয়াচং থানা পুলিশ পরিবারকে জানায়, মরদেহ দিনাজপুরে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের খালাতো ভাই রেজাউল তানজীম বলেন, “জাবিদুর কখনও দিনাজপুরে যায়নি, সেখানে আমাদের কেউ নেই। রুমমেটদের কাছেও সে এমন কিছু বলেনি। মরদেহ যে জায়গায় পাওয়া গেছে, তা জনমানবহীন— ধানক্ষেত ও রেললাইন ছাড়া কিছু নেই।”
তানজীমের দাবি, “আমরা নিশ্চিত, জাবিদুরকে হত্যা করা হয়েছে। পরে মাথা রেললাইনে রেখে ট্রেনে কেটে আত্মহত্যার চিত্র বানানো হয়েছে। ওই রাতেই একতা এক্সপ্রেস ট্রেন ওই পথে গেছে।”
তিনি বলেন, “ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তে তুলে আনার জন্য রেলওয়ে থানা ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জাবিদুর ছিলেন সবার ছোট। তার কোনো শত্রুতা বা মানসিক চাপ ছিল না বলে জানায় পরিবার। ঢাকায় ব্যবসা করতেন, কোনো সন্দেহজনক বিষয় তারা জানে না।
ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সন্ধ্যায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একাধিকবার মূর্ছা যান পরিবারের সদস্যরা।
বানিয়াচং থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, “পার্বতীপুর রেলওয়ে থানা থেকে জানানো হয়েছে, ট্রেনে কাটা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারকে জানানো হয়।”
তিনি বলেন, “পরিবার যদি হত্যার অভিযোগ তোলে, তদন্ত হবে পার্বতীপুর থানা পুলিশের মাধ্যমে। আমরা সহায়তা করব।”
এদিকে নিহতের পরিবার জানিয়েছে, তারা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, অচেনা জায়গা, রহস্যজনক পরিস্থিতি ও মরদেহ উদ্ধারের ধরণ— সব মিলিয়ে জাবিদুরের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ। পরিবারের দাবি, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসবে সত্য।
