মানবপাচার মামলায় হাসান মোল্লা পিতা ও বোনসহ আসামি আটজন
প্রধান প্রতিবেদক ॥ লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির পথে নিখোঁজ হবিগঞ্জের ৩৮ তরুণের একজনের পরিবার আজমিরীগঞ্জ থানায় মামলা করেছে। সম্প্রতি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের নিখোঁজ হাবিবুর রহমানের পিতা ছায়েদ মিয়া মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬ ও ৭ ধারায় মামলাটি করেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে
‘আদম বেপারী’ হাসান মোল্লা, তার বাবা আব্দুল গণি, বোন ঝর্ণা আক্তার, চক্রের সদস্য ছদক মিয়া, মিজান মিয়া, রিয়াদ চৌধুরী বাপ্পী, মঞ্জিল মিয়াসহ আটজনকে।
আইনের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, আর্থিক বা অন্য মুনাফার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ করলে গোষ্ঠীর সব সদস্য দায়ী হবেন। এ অপরাধে মৃত্যুদ-, যাবজ্জীবন বা ন্যূনতম সাত বছরের সশ্রম কারাদ- ও অন্তত পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, লিবিয়ায় অবস্থানরত হাসান মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের ভিত্তিতে দেশে থাকা চক্রের সদস্য রিয়াদ চৌধুরী বাপ্পীর হাতে কয়েক দফায় ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরিবারের ধারণা, লিবিয়ায় নেওয়ার পর হাবিবুর রহমানকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়ে থাকতে পারে।
আজমিরীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সনত কৃষ্ণ দেব মামলাটি তদন্ত করছেন। গতকাল বুধবার তিনি বলেন, আপাতত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই; পরে তথ্য দেওয়া যাবে।
এদিকে নিখোঁজের ২ মাস ১৭ দিনে লিবিয়ার কারাগার, হাসপাতালসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস।
নিখোঁজদের প্রতিটি পরিবার ইতালি পাঠানোর আশায় স্থানীয় ‘আদম বেপারি’ হাসান মোল্লার হাতে ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। এখন প্রিয়জনের মৃত্যুর আশঙ্কায় পরিবারগুলো আতঙ্কগ্রস্ত। ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে কেউ মুখ খুলছেন না, আইনি পদক্ষেপেও যাচ্ছেন না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইতালিগামী নৌকায় ত্রিপলি উপকূল থেকে যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় স্বজনদের। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক খোয়াইয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ওই তরুণদের সন্ধান ও উদ্ধারে উদ্যোগ নিতে লিবিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসকে নির্দেশ দেয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তারাও কোনো সন্ধান পায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হবিগঞ্জসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লিবিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের ইতালিতে পাঠানোর ‘দালাল’ হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছেন হাসান মোল্লা। মাত্র ছয় মাসে প্রায় এক হাজার মানুষকে ইতালিতে পাঠিয়ে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
অভিযোগ রয়েছে, ত্রিপলির উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগরে ১০ ঘণ্টার নৌপথে মানুষকে ইতালি পৌঁছে দেন হাসান। ছয় মাসে এ ব্যবসা থেকে তিনি অর্জন করেছেন শত কোটি টাকা। ৩৮ বাংলাদেশিসহ ৯০ জন নিখোঁজ হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে হাসানের এ ‘আদম ব্যবসা’।
