হবিগঞ্জে বিএনপির দুই প্রার্থীর ‘গলার কাঁটা’

হবিগঞ্জে বিএনপির দুই প্রার্থীর ‘গলার কাঁটা’
হবিগঞ্জে বিএনপির দুই প্রার্থীর ‘গলার কাঁটা’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের দুটি আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির দুজন নেতা এখনও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের একজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, অন্যজন নির্বাচনী প্রস্তুতি তৎপরতা চালাচ্ছেন।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার পক্ষে গত রবিবার নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমীনের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তাঁর কর্মী সমর্থকরা। একই দিনে মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত

মিয়াকেও নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে প্রথম ধাপেই মনোনয়ন পাওয়া শিল্পপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এসএম ফয়সল ভোটের মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুরুতে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার শিফার সাম্প্রতিক সময়ে নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এ আসনে রবিবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাশেমের কাছ থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা।

জেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে খোয়াইকে বলেন, দীর্ঘ ষোল বছর স্বৈরশাসনের পর এবার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। এ লক্ষ্যেই বিএনপির চেয়ারপারসন রাষ্ট্রকাঠামো গঠনের যে পরিকল্পনা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা প্রার্থী হচ্ছেন, তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী নন বলেই আমরা মনে করি। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে এসব ‘গলার কাঁটা’ দূর করা জরুরি। জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে। এখানে মোট ৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪০ হাজার ৯০, নারী ২ লাখ ৭১ হাজার ১৮০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। এ আসনে ১৮৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ১৬টি স্থায়ী ও ৪১টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬১ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার, নারী ২ লাখ ২৮ হাজার ২৬৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন। এই আসনে ১৭৭টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র এবং ৯০৫টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে।