পাশের জেলা বাড়তি ঠিকেট পেলেও কাটেনি হবিগঞ্জের সংকট
যাত্রী আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে মৌলভীবাজারের জন্য ৬০টি বাড়তি আসন বরাদ্দ হলেও ২৪ লাখ মানুষের হবিগঞ্জ একটিও আসন পায়নি।
সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ছয়টি ট্রেনে দীর্ঘদিন ধরেই হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের তুলনায় মৌলভীবাজারের স্টেশনগুলোতে আসন সংখ্যা বেশি। তবু এ জেলাকে বাদ দিয়ে শুধু মৌলভীবাজারের আসন আরও বাড়ানোয় রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীরা আশাহত হয়েছেন।
ঢাকাগামী সকালের কালনী এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জের জন্য তিনটি এসি কেবিনসহ বরাদ্দ, আসন মাত্র ৫৩টি। জয়ন্তিকায় ৬৪, পারাবতে ৩০ এবং উপবন এক্সপ্রেসে ৫০টি টিকিট থাকলেও কোনোটিতেই এসি কেবিন নেই। অথচ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে কালনীতে ছয়টি এসি কেবিনসহ আসন ১৪৯টি। জয়ন্তিকায় ১১৫, পারাবতে ১৮টি এসি কেবিনসহ ১৬১টি এবং উপবনে ১৩৫টি টিকিট বরাদ্দ, যা শায়েস্তাগঞ্জের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
সিলেট-চট্টগ্রাম রুটেও বৈষম্য স্পষ্ট। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জের জন্য তিনটি এসি কেবিনসহ আসন ৪৪টি, আর উদয়নে রয়েছে মাত্র ৪০টি শোভন চেয়ার, এসি নেই। সেখানে মৌলভীবাজারের দুই স্টেশনে পাহাড়িকায় তিনটি এসি কেবিনসহ ৬৯টি এবং উদয়নে ৫০টি আসন বরাদ্দ থাকে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি রেলওয়েতে টিকিট সংখ্যা বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবিতে যাত্রী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২০টি এবং কুলাউড়া স্টেশনে আরও ৪০টি আসন বাড়ানো হয়েছে, একটি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে। কিন্তু এই বাড়তি বরাদ্দের তালিকায় হবিগঞ্জের নাম নেই। এতে জেলার যাত্রীদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
টিকিট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মঈনুল হাসান রতন বলেন, “হবিগঞ্জকে বঞ্চিত করে মৌলভীবাজারের দুটি স্টেশনে আসন বাড়ানো আমাদের গভীরভাবে আহত করেছে। আমরা শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের জন্য অন্তত ৩৫০টি আসন চাই। এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য রেল ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
হবিগঞ্জের বাসিন্দা সাবেক উপসচিব ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ড. শেখ ফজলে এলাহী খোয়াইকে বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ ঢাকা ও চট্টগ্রাম যাতায়াত করেন। সুনামগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরাও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল টিকিট বরাদ্দে বঞ্চনার শিকার। এবার সেই বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানরা যারা সরকারি উচ্চপদে আছেন এবং ঢাকায় বসবাস করছেন, এ বিষয়ে এগিয়ে তাদের ভূমিকা প্রয়োজন। তাদের প্রতি অনুরোধ, হবিগঞ্জের অধিকার আদায়ে কথা বলার। আমরা সবসময় একাত্মতা জানাব।”
