ভুয়া এমসি দিয়ে জেল বাদীই হলেন আসামি

ভুয়া এমসি দিয়ে জেল বাদীই হলেন আসামি
ভুয়া এমসিতে গুরুতর জখমের কথা উল্লেখ ছিল— কিন্তু বাস্তবে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ‘সাধারণ আঘাত’ হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জে ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) দাখিল করে নিরপরাধ কয়েকজন ব্যক্তিকে দিনের পর দিন কারাবন্দি রাখার অভিযোগে মামলার বাদী মনির হোসেনের (৪০) বিরুদ্ধেই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে আদালত। গত ২৩ জুন দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালত এই নির্দেশ দেন। পরে হবিগঞ্জ সদর থানায় এ সংক্রান্ত মামলা প্রেরণ করা হয়।

আসামী মনির হোসেন ওরফে মনু মিয়া শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে। আদালতের স্টেনোগ্রাফার মোতাহের হোসেন খোয়াইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মনির হোসেন সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামে একটি ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরি করে তা আদালতে দাখিল করেন। ওই সার্টিফিকেটে গুরুতর (গ্রিভিয়াস) জখমের কথা উল্লেখ ছিল, যা বাস্তবে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসার রেকর্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণ অমিল। হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের এমসিতে মনির হোসেনের ‘সাধারণ আঘাত’ (সাধারণ জখম) ও কোনো রেফারেন্স না থাকলেও, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভুয়া কাগজে গুরুতর আঘাত এবং ‘২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি’ থাকার কথা লেখা হয়— যা প্রকৃতপক্ষে শিশু ওয়ার্ড।

এই জালিয়াতির ঘটনায় মামলার তিন আসামির মধ্যে আব্দুর রহিম ৮ দিন এবং জুয়েল মিয়া ২২ দিন কারাগারে কাটান। পরবর্তীতে তাদের আইনজীবী আদালতে এমসি যাচাইয়ের আবেদন করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিলে, তদন্তে প্রমাণিত হয়— মনির হোসেন নিজেই হাসপাতালের সহকারি পরিচালকের স্বাক্ষর ও সিল ফটোকপি করে ভুয়া কাগজ তৈরি করেছেন।

সিআইডির এই তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ভুয়া সার্টিফিকেট দাখিল ও প্রতারণার অভিযোগে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন এবং সেই অনুযায়ী হবিগঞ্জ সদর থানায় গতকাল সোমবার এফআইআর প্রেরণ করা হয়।

এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুতুব উদ্দিন জুয়েল বলেন, “ভুয়া এমসি দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে জেলে পাঠানো অত্যন্ত জঘন্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আদালতের সাহসী পদক্ষেপে সত্য উদঘাটিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।” তিনি আরও বলেন, “মনির হোসেনের মত মানুষদের কারণে আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল হয়। আইন যেন এমন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়— এটাই কাম্য।” এদিকে আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র পেলে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

কী বলছে আইন?

ভুয়া নথি দাখিল, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা এবং নিরীহ ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর দায়ে একাধিক ফৌজদারি ধারায় মামলা হতে পারে। সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদ-।