সাজা পেলো হাসপাতালের ৯ ‘দালাল’

সাজা পেলো হাসপাতালের ৯ ‘দালাল’
সাজা পেলো হাসপাতালের ৯ ‘দালাল’

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ‘দালালচক্রের’ নয় সদস্যকে ১৫ দিনের কারাদ- ও ২০০ টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহসীন মিয়া এ দন্ডাদেশ দেন।

এর আগে সেনাবাহিনীর হবিগঞ্জ সদর ও র‌্যাব-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘দালালচক্রের’ সদস্যদের আটক করে।

সাজার আদেশপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার পইল গ্রামের আরজ আলীর ছেলে রমিজ আলী রনি (২৭), পৌর এলাকার অনন্তপুরের আইদর শাহ এর ছেলে কামাল শাহ (২৫), একই গ্রামের আকল আলীর

ছেলে আসাদুজ্জামান রিপন (৪৩), হরুফ মিয়ার ছেলে কাউছার (৩০), বানিয়াচং উপজেলার শতমুখা গ্রামের মজর আলীর ছেলে বিলু মিয়া (৪২), একই উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামের অসিত দাশ (৪০), চুনারুঘাট উপজেলার ফুলগাঁও গ্রামের বেলাল মিয়ার ছেলে আব্দুল খালেক মিয়া (২৭), আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের নিকুঞ্জ ঘোষের ছেলে নিতু ঘোষ (৩৫) ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের নিখিল রায়ের ছেলে সৌরভ রায় (২১)।

জানা যায়, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে শহরে গড়ে উঠেছে একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ফার্মেসি। প্রতিদিন ‘দালালচক্র’ রোগীদের এসব ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। নির্দিষ্ট ফার্মেসিতে নিয়ে গিয়ে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রেও তারা প্রভাব খাটায়। এসব ফার্মেসি নিজেদের বিক্রি বাড়াতে নিয়োগ দিয়েছে নিজস্ব দালালও।

‘দালালদের’ উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছিলেন বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ। অনেক ক্ষেত্রেই ‘দালালচক্রের’ খপ্পরে পড়ে রোগীর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহসীন মিয়া খোয়াইকে বলেন, দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৮৬ ধারায় নয়জনের প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদ- ও ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে সবাই অর্থদ-ের টাকা পরিশোধ করেছেন।