‘খাসির নামে ভেড়ার মাংস’
স্টাফ রিপোর্টার ॥ গরু ও খাসির মাংসে হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্ধারিত দাম এখন যেন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৭০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। খাসির ক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ— নির্ধারিত দাম ৮৫০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায়।
ভুক্তভোগী ক্রেতারা বলছেন, অতিরিক্ত দাম তো দিচ্ছিই, উপরন্তু প্রকৃত খাসির মাংসও মিলছে না। অনেক সময় তা ছাগল কিংবা ভেড়ার মাংস বলে সন্দেহ হচ্ছে তাদের।
এই বিষয়ে পুরোনো ব্যবসায়ী মর্তুজা ইমতিয়াজ বলেন, “মাংস বিক্রিতে হবিগঞ্জ পৌরসভার রেট এখন তামাশায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ পুরোপুরি বিপাকে পড়েছে। দ্রুত মনিটরিং বাড়ানো না হলে বাজার আরও বেসামাল হবে।”
সরকারি চাকরিজীবী শাহনাজ ইয়াসমিন বলেন, “যেভাবে দাম বাড়ছে এবং যা বিক্রি হচ্ছে, তাতে প্রতারণার শিকার হচ্ছি আমরা। পৌরসভা চোখ বন্ধ করে বসে আছে। নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই বিশৃঙ্খলা থামবে না।”
মঙ্গলবার (২৪ জুন) শায়েস্তানগর বাজারে সরেজমিনে গেলে আরও কয়েকজন ক্রেতা প্রকাশ করেন তীব্র ক্ষোভ। কেউ কেউ বলেন, দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে কেন জিজ্ঞাসা করলেই বিক্রেতারা বিরূপ আচরণ করেন।
এদিকে মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া দাবি করেন, “বাজারে গরু-ছাগলের দাম অনেক বেশি। পৌরসভা তিন বছর ধরে রেট হালনাগাদ করেনি। বাধ্য হয়েই আমরা নিজেরা দাম নির্ধারণ করে মাংস বিক্রি করছি।”
তবে শুধু মাংস নয়, মুরগির বাজারেও রয়েছে অস্থিরতা। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি সোনালী মুরগির দাম ছিল ২৬০ টাকা, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩০০ টাকায়।
তবে এক সপ্তাহে দেশি মুরগি ৬০০ টাকা থেকে কমে এখন ৫৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৫০ থেকে কমে ১৩০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩২০ থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়।
ডিমের বাজার এক সপ্তাহ ধরে অপরিবর্তিত— হাঁসের ডিম ৫৫ টাকা, মুরগির ডিম ৪৫ টাকা, আর কক মুরগির ডিম ৭০ টাকা হালিতে বিক্রয় হচ্ছে।
এই বাজার বিশৃঙ্খলা ও পৌরসভার নিরবতা নিয়ে পৌর সচিব জাবেদ ইকবাল চৌধুরী খোয়াইকে বলেন, “শীঘ্রই টিএলসিসির বৈঠক রয়েছে। আশা করছি, মাংসের দামের ব্যাপারে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।”
