অস্তিত্ব সংকটে ‘লক্ষ্মী বাওর’
বদরুল আলম ॥ বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাবন ‘লক্ষ্মী বাওর’ আজ অস্তিত্বের সংকটে। বানিয়াচং উপজেলার প্রায় তিন কিলোমিটার আয়তনের এই জলাবন এক সময় প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের স্বর্গরাজ্য ছিল। এখন তা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
প্রভাবশালী একটি মহলের গাছ কাটার উৎসব, অপরিকল্পিতভাবে মাছ ধরা এবং পাখি নিধনে ধীরে ধীরে প্রাণশূন্য হয়ে পড়ছে এই জলাবন। অথচ প্রশাসন রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কোটি কোটি টাকার গাছ কেটে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। হিজল, করজসহ নানা প্রজাতির গাছের ডাল মাছ ধরায় ব্যবহৃত হচ্ছে। কেউ কেউ লাকড়ির জন্যও গাছ কেটে নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বনের ভেতরে রয়েছে ছোট-বড় ২০টিরও বেশি জলাশয়। এসব প্রতিবছর
মোটা অঙ্কে লিজ দেওয়া হচ্ছে প্রভাবশালীদের হাতে। মাছ ধরা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবাশ্বির আহমেদ মজনু বলেন, “একসময় জলাবনটি আওয়ামী লীগ নেতা হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়ার দখলে ছিল। বর্তমানে তিনি পলাতক থাকলেও প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এখন সবাই নিজের মতো গাছ কেটে নিচ্ছে। প্রতিদিনই পাখি শিকার হচ্ছে।”
আরও অভিযোগ, ১৯৫৫ সালের পর থেকে ‘সৈদরটুলা ছান্দ’ নামের একটি গোষ্ঠী এই বন নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে দখলে রেখেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, বনে রয়েছে হিজল, করজ ছাড়াও বরুণ, কাকুরা, খাগড়া, বাউলা, নলসহ নানা উদ্ভিদ। দেখা মেলে দোয়েল, পানকৌড়ি, শালিক, বালি হাঁস, সাদা বকসহ শীতকালে পরিযায়ী পাখির। রয়েছে নানা প্রজাতির সাপ, গুইসাপ ও বেজিও। অথচ এসব প্রাণীর জীবনও এখন হুমকির মুখে।
‘খড়তির জঙ্গল’ নামে পরিচিত এই এলাকা পর্যটকদেরও টানে। কিন্তু প্রশাসনের গা ছাড়া মনোভাবে হতাশ প্রকৃতিপ্রেমীরা।
বানিয়াচং এলআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, “এই বন রক্ষায় এখনই উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু নামেই জানবে লক্ষ্মী বাওরের কথা।”
এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী বলেন, “৩৭৫ একরের মধ্যে প্রায় ৭৫ একর সরকারি খাসজমি বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে। ৩০০ একর নিয়ে আদালতে ছান্দের পক্ষে রায় হয়েছে, তবে সরকারপক্ষ আপিল করেছে। আপিলের রায় এখনও অপেক্ষমাণ। বনটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের উদ্যোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি গেটও নির্মাণ করা হয়েছে।”
