ইটভাটার দূষণে কমছে ফসলের উৎপাদন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের পাশে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ২০টি ইটভাটা। দূর থেকে তাকালেই দেখা যায়— কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও চারপাশে ধুলোবালির ঝাপটা।
ইটভাটায় বিপর্যস্ত পরিবেশের ভয়াবহতা বুঝা যায়— আশপাশের গাছপালার দিকে তাকালেই। সবুজ পাতাগুলো প্রায় বিবর্ণ— পড়েছে ধুলোর আস্তর। স্থানীয়দের অভিযোগ ইটভাটার পাশের এলাকায় গাছে কমেছে ফলের পরিমাণ, প্রভাব পড়েছে কৃষি জমিতেও। এছাড়াও ধুলোবালিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই জনপদের মানুষের জীবন।
লস্করপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজল মিয়া বলেন, “ফসল যেতা আছে— টমেটো-কপির ফুল আইয়্যা মইজ্যা যায় গিয়া। এত মেন্নত করি— একেকটা গাছো ৫/৭টা বান লাগে। তার পরেও ফলন অয় না। ইটভাটায় আমার কপাল পুড়ছে।”
একই এলাকার নিজাম উদ্দিন বলেন, “ফসলের জমিরে ফুকুর বানাইয়্যা মাটি ভাটায় নিতাছে। এইভাবে আর কয়েক বছর থাকলে আর মাটি ফাওয়া যাইতো না— শেষ অই যাইবো।”
হবিগঞ্জ জেলায় ইটভাটা রয়েছে ১১৯টি; যার মধ্যে ২৪টি ভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। যাদের ছাড়পত্র রয়েছে তারাও মানছেন না আইন। প্রতিনিয়ত পরিবেশের ক্ষতি করে ভাটা পরিচালনা করায় ক্ষুব্ধ পরিবেশ কর্মীরা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “হবিগঞ্জের ইটভাটাগুলো পরিবেশ এবং প্রতিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের কৃষিজমি থেকে যে পরিমাণ টপসয়েল নেওয়া হচ্ছে ইটভাটার জন্য এতে কৃষি ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশ আইনের শতভাগ প্রয়োগের কোন বিকল্প নেই।”
যোগাযোগ করা হলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোঃ ফরিদুর রহমান বলেন, “ফসলী জমির টপসয়েল কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় জরিমানা ও মামলা দায়ের করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে ৪টি ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জনবসতির পাশে আর কোন ইটভাটাকে লাইসেন্স দেওয়া হবে না।”
