"মুচিলীগ-চোরালীগ অতীতে রাষ্ট্রকে মিলে ভোগ করেছে"- বললেন ডিসি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোঃ ফরিদুর রহমান বলেছেন— “অতীতে মেধাভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা ছিল না, সব কিছু কোটায় হতো। দেশটাকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আমাদের রাষ্ট্রটিকে বিভিন্ন নামে ভাগ করে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ভোগ করা হত। শ্রমিক লীগ, তাঁতি লীগ, মুচি লীগ, চোরা লীগ—  এমন কোনো লীগ নেই, যে নামে সম্পদ ভাগ করা হয়নি। কিন্তু সেই জুলুম যেন কেউ আবার অন্যভাবে নিয়ে না আসে।”

তিনি গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারী জুলাই যোদ্ধাদের সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

খুন-গুম-হত্যা ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন—  “এককভাবে পুলিশ এসব কাজ করেনি, তাদের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে খুন, গুম, চাঁদাবাজি ও হত্যা হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, রাষ্ট্রটা যেন কারো একক সম্পত্তি না হয়। এখনও অনেক অফিস আছে, যেখানে জুলাই আন্দোলনের আশা-আকাক্সক্ষা বা সুশাসনের চর্চা হয়নি। আপনারা সেগুলোর বিরুদ্ধেও কথা বলবেন। এই অন্যায় আর না, ওটা শেষ হয়ে গেছে ’২৪-এর আগেই।”

আলোচনা সভা শেষে ১৫ জন শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ রত্নদ্বীপ বিশ্বাস প্রমুখ। পরে ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ও নাটিকা উপস্থাপন করা হয়।