সরকারি হাসপাতালে টাকা নিয়ে সেবা

সরকারি হাসপাতালে টাকা নিয়ে সেবা
সরকারি হাসপাতালে টাকা নিয়ে সেবা

লাখাই প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার (এফডাব্লিউভি) নামে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি সেবা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের চাহিদামত প্রেসক্রিপশন করা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন রোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, করাব মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র থেকে গর্ভবতী নারীদের ভাতার কার্ড সুবিধা পেতে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা সুচিত্রাকে দিতে হয় টাকা। এছাড়াও অফিস চলাকালীন সময়ে রোগীদের কাছ থেকে রোগী দেখা বাবদ এবং গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব চেকআপের ক্ষেত্রেও টাকা নিয়ে থাকেন। প্রসবের সময় পেরিনিয়াম কাট বা এপিসিওটমি সেলাই করতে ও ইমপ্ল্যান্ট (কার্যকর গর্ভনিরোধক পদ্ধতির) জন্যও টাকা দিতে হয় সুচিত্রা রাণীকে।

পুর্ব সিংহগ্রামের পারভিনের মা বলেন, আমার মেয়ে সন্তান প্রসবের জন্য পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা সূচিত্রার কাছে যাই, তিনি ডেলিভারি শেষে আড়াই হাজার টাকা আমার কাছে দাবি করে নেন। সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি করালেও সরকারি কোন ওষুধ দেননি।

আরেক ভুক্তভোগী মা নাজমা আক্তার বলেন, আমি ডেলিভারি ব্যথা নিয়ে ভোর ৫টা ৪০মিনিটের সময় করাব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাই। হাসপাতালের গেটের সামনে এসে অনেক ডাকাডাকি করে ব্যর্থ হয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রার ফোনে কয়েকবার কল করার পরও তিনি রিসিভ করেননি। পরে বলেন, আপনারা ৯টার পরে আসেন, আমি এখন ঘুমাচ্ছি। অথচ সরকারি এই ডেলিভারী সেন্টারে সপ্তাহের ৭দিন ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদানের কথা।

জোসনা আক্তার বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে একঘন্টা ধরে বসে অপেক্ষা করছি, কিন্তু পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকার সাথে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি না। কিছুক্ষণ পরপর ওষুধ কোম্পানির লোক সুচিত্রা রাণীর সাথে দেখা করছেন— আর বের হচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নাইমুর রহমান পিয়াস বলেন, সুচিত্রার সকল বিষয়ে আমি পূর্বে থেকে অবগত আছি, ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিষয়ের তদন্ত হয়েছে। সবমিলে আমরা তাকে নতুন করে একটা গাইডলাইন দিয়েছি। আর ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ব্যাপারটা আমি গুরুত্ব সহকারে দেখব।