সহপাঠীর ‘হত্যাকারী’ শিশু যাচ্ছে সংশোধনাগারে

সহপাঠীর ‘হত্যাকারী’ শিশু যাচ্ছে সংশোধনাগারে
সহপাঠীর ‘হত্যাকারী’ শিশু যাচ্ছে সংশোধনাগারে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাধবপুরে জুতা নিয়ে ঝগড়ার ঘটনায় ৮ বছরের মাদরাসাছাত্র আশরাফুল ইসলাম রাফিকে (রাফি) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত তারই সহপাঠী নবিনকে (৯) আদালত কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফাতিমা ইমরোজ ক্ষণিকার আদালতে অভিযুক্ত শিশুকে হাজির করা হয়। শুনানী শেষে আদালত তাকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

হবিগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মোঃ নাজমুল হোসেন খোয়াইকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহত রাফির পরিবার শোকে কাতর। তার মা মোছাঃ ফরিদা বেগম খোয়াইকে বলেন, পরিস্থিতি সামলে শিগগির থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কবীর হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিশুকে আইনের নিয়ম অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের মাধ্যমে পরবর্তী আইনী প্রক্রিয়া চলবে।

নিহত রাফি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপড়াতলা গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে পরিবারসহ মাধবপুরের নোয়াপাড়া গ্রামে বসবাস করছিল।

অভিযুক্ত ছাত্র এহসানুল হক নবিন (৯) একই মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। সে মাধবপুর উপজেলার উত্তর শাহপুর গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ তাকে আটক করেছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাফির কাছে এক জোড়া জুতা চায় নবিন। রাফি দিতে অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রাফি তাকে ধাক্কা দিলে সে মৌমাছির চাকে পড়ে যায়।

পরে ক্ষিপ্ত হয়ে নবিন তার হাতে থাকা ছোড়া দিয়ে রাফির শরীরে একের পর এক আঘাত করে। বাম চোখে একটি, পিঠে অন্তত সাতটি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

দুপুরে খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কবির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত নবিনকে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় সে পুলিশের সামনে জানায়, পাশের একটি দোকান থেকে ফল কাটার জন্য সে ছুরিটি কিনেছিল। পরে পুলিশ দোকান থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করে।