সিএনজি পাম্পে বিস্ফোরণের রহস্য ঘিরে দ্বন্দ্ব
এমএ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জের আউশকান্দি এলাকায় সিএনজি পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর বলছে, বাসের নিম্নমানের কিট থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিবহন শ্রমিক সংগঠন পাম্প কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করে বিচার দাবি করেছে।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মোস্তফা ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাসের কিট থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে, এরপর কোনো গাড়ির ইঞ্জিনের স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, “সিএনজি সিলিন্ডারের মেয়াদ ২৫ বছর হলেও প্রতি ৫ বছর অন্তর রি-টেস্ট করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ গাড়ির মালিক নিয়মিত সার্ভিসিং করেন না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।”
তিনি প্রস্তাব করেন— মোটরযানের ফিটনেস সনদের সঙ্গে সিলিন্ডারের রি-টেস্ট সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা, প্রতি তিন মাস অন্তর রিফুয়েলিং স্টেশনের সরঞ্জাম পরীক্ষা এবং বার্ষিক নিরাপত্তা জরিপ নিশ্চিত করা। তদন্ত রিপোর্ট দুই দিনের মধ্যে জমা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রমাণ হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সিএনজি পাম্প কর্তৃপক্ষকে।
অন্যদিকে বাসের মালিক শহিদ মিয়া দাবি করেছেন, কিট থেকে নয়, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে অটোরিকশার ইঞ্জিন থেকে। তাঁর ভাষ্য, “আমি দুই বছর আগে বাসটি কিনি, এক বছর আগে জ্বালানি ব্যবস্থা সিএনজিতে রূপান্তর করি। কাগজপত্র আগুনে পুড়ে গেছে।”
হবিগঞ্জ মোটর মালিক ও শ্রমিক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, “আমাদের দেখা মতে আগুন বাসের কিট থেকে লাগেনি। গরিব মালিক জমি বিক্রি করে বাসটি কিনেছিলেন। এখন তাকে দায়ী করা অন্যায়।”
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছামাদুল হক অভিযোগ করেন, “বাসের কিট অক্ষত ছিল। এখন সেটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের বাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে দায়ী করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘মেসার্স আউশকান্দি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন’-এ এ অগ্নিকা- ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে নয়টি অটোরিকশা, একটি বাস, দুটি মোটরসাইকেলসহ পুরো স্টেশন পুড়ে যায়। আহত হন ছয়জন। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।
