হবিগঞ্জ কারাগারে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ কয়েদি
সৈয়দ সালিক আহমেদ ॥ হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে কয়েদী সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিনগুণ। ৪৪৬ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে গত রবিবার পর্যন্ত কয়েদী ছিলেন ১ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬২ জন পুরুষ, ২০ জন নারী এবং তাঁদের সাথে রয়েছে ৩ জন শিশু।
কারা কর্তৃপক্ষের দাবি এই সংখ্যা রোজ পরিবর্তন হয়। তবে ধারণক্ষমতার তিনগুণ হলেও এতে কয়েদীদের তেমন কোন সমস্যা হয় না। এছাড়া এই মুহুর্তে জেলায় কোন ভিআইপি কয়েদী নেই।
বৃটিশআমলে প্রণীত আইনে দেশের কারাগারে একজন বন্দি ৩৬ বর্গফুট স্থান পেয়ে থাকেন। সে হিসেবে হবিগঞ্জ কারাগারে বর্তমানে একজন কয়েদি পাচ্ছেন মাত্র ১৩ বর্গফুট।
এদিকে, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৫৪টি, বর্তমানে সরকারি এবং খন্ডকালীন মিলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী। ২৪টি পদ শূণ্য থাকায় রয়েছে জনবল সংকট।
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজ) মোঃ আলতাব হোসেন জানান, কারাগার এখন আর কেবল কয়েদিদের শাস্তির জায়গা নয়, এটি এখন সংশোধন ও পুনর্বাসনের কেন্দ্র। বন্দীদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখে তাদের পুনরায় সমাজে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই আমরা বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করেছি। যার মাধ্যমে তারা নিজেরা সংশোধিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
ডিআইজি বলেন, দেশের সকল জেলা কারাগারে কয়েদিদের ট্রেইলারিং প্রশিক্ষণ, কয়েদিদের কাপড় উৎপাদন (পাওয়ার লোন), নকশী কাঁথা তৈরী, কৃষি প্রশিক্ষণসহ বেশ কিছু জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়া কয়েদিদের তৈরী পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ টাকা তাঁদের দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৮০শতাংশ কারাগার ডিজিটালে রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়া শূণ্যপদ পূরণ এবং কয়েদিদের জায়গা বৃদ্ধির জন্য উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করা হয়েছে।
কয়েদিদের মানবাধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনতো কারাগারে দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ কয়েদি আছেন, একটা সময় দেশের অনেক কারাগারে ছয় গুণেরও বেশী কয়েদি ছিল। আমরা তখনো কয়েদিদের মানবাধিকারে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণের চেষ্টা করেছি।
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের বর্তমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া যে তিনটি শিশু আমাদের কারাগারে তাঁদের মায়েদের সাথে আছে তাদের শিশু কর্ণারে খেলাধুলাসহ কারা নিয়ম অনুয়ায়ী পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কারাগার হবে শুদ্ধাচার, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার অনুশীলন ক্ষেত্র।
