হাওরে মাছের সংকটে শুটকি উৎপাদনে ভাটা

হাওরে মাছের সংকটে শুটকি উৎপাদনে ভাটা

সৈয়দ সালিক আহমেদ : হবিগঞ্জ জেলায় হাওরের পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে ব্যস্ততা বেড়েছে শুটকি প্রস্তুতকারীদের। তবে বর্তমানে হাওরের মাছ কমে যাওয়ায় শুটকি মাছের উৎপাদন অনেক কমেছে। 

সরকারের মৎস্য বিভাগ বলছে—  শুটকি তৈরীর জন্য যে কাঁচামাল প্রয়োজন তা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। আগে হাওরে ১৫০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত; আর এখন মাত্র ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। মাছ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকে। 

জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার ৫ শতাধিক পরিবার এই শুটকি উৎপাদনের পেশায় জড়িত।

জেলা মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত অর্থবছরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৪০ টন, বানিয়াচংয়ে ৫৭৫, নবীগঞ্জে ২৭, চুনারুঘাটে ২১২, লাখাইয়ে ২৩১ এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ৩৪২ টন শুটকি উৎপাদন হয়েছিল। যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। 

হবিগঞ্জে উৎপাদিত শুটকিতে কোন কেমিক্যাল ব্যবহার হয় না, তাই এর স্বাদ ও কদর সবসময় আলাদা। কিন্তু এ বছর শুটকি উৎপাদনকারীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। 

উৎপাদনকারীরা বলছেন, বাজার থেকে উচ্চমূল্যে পাইকারী দামে শইল, বাইম, পুটি, টেংরা ইত্যাদি মাছ কিনে এনে শুটকি তৈরী করা হয়। তবে হাওর এবং নদ-নদীতে পানি কমে যাওয়ায় চাহিদামত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার চাহিদা সম্পন্ন মাছের দামও অনেক বেশী। 

তাঁরা আরও বলছেন—  আগে শহরের উমেদনগরে মাসে ৮টি পাইকারী শুটকির হাট বসতো, এখন বসছে মাত্র ৪টি। শ্রমিকদের ভাষ্যÑ সকাল ৬টা থেকে কাজ শুরু করে দৈনিক ৫ ঘন্টা কাজ করে মাসে ১০ হাজার টাকা মজুরী পান তারা। 

এদিকে পাইকারী বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেয়া যায়, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারী ক্রেতারা এসেছেন হবিগঞ্জের এই সুস্বাধু শুটকি মাছ কিনতে। 

সিরাজগঞ্জ থেকে পাইকারী শুটকি কিনতে আসা ব্যবসায়ী ফরিদুর রহমান জানান, আগে প্রতি মাসে ৭/৮বার হবিগঞ্জে শুকটি হাট করতে আসেতন। এখন মাসে ২/৩বার আসেন। কারণ চাহিদামত শুটকি পাওয়া যায় না। আবার দামও আগের তুলনায় অনেক বেশী। এছাড়া পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। তাই সবমিলে এই ব্যবসায় অনেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। 

উদেমনগর হাটে শুটকির আড়ৎদার কামরুল ইসলাম বলেন, আগে এই হাটে হরেক রকমের শুটকি বিক্রি হতো। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এসে নিয়ে যেত। আমাদের এখানে উৎপাদিত শুটকি সুস্বাধু ও মজাদার বলে কদর আলাদা। 

হবিগঞ্জ জেলা মৎস কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, দিনে দিনে হবিগঞ্জে শুটকির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অনেকে এই পেশাল প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। আমরা মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য হাওরে বিভিন্ন ধরণের অভিযান করছি, বিশেষ করে পোনা মাছ সংরক্ষণের জন্য। যদি পোনা মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় তাহলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।