‘চোরের’ ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহত, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

‘চোরের’ ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহত, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
‘চোরের’ ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহত, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার: হবিগঞ্জ শহরে চুরির ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যেই প্রাণ গেল এক স্কুলছাত্রের।  বুধবার রাত ৩টার দিকে ‘চোরের’ ছুরিকাঘাতে নিহত হয় দশম শ্রেণির ছাত্র জনি দাস (১৭)।

ঘটনাটি ঘটে শহরের দিয়ানত রামসাহার বাড়ি ‘মহব্বত মঞ্জিলে’। পুলিশের ভাষ্য, ঘরে চোর ঢুকলে জনি তাকে ধাওয়া দেয়।  পালানোর সময় চোর ছুরিকাঘাত করে।  চিৎকার শুনে ছুটে আসা বড় ভাই জীবন দাসও আহত হন।

স্থানীয়রা দুই ভাইকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন।  জনি ওই ভবনের ভাড়াটে নরধন দাসের ছেলে এবং হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জনির ভাই জীবন দাস বলেন, “চোর চোর বলে চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি জনি এক যুবকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছে। ছুরি আমার গায়েও লাগে।”

হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি একেএম সাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, “জনির শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে না; তাৎক্ষণিক উসকানি থেকেও ঘটতে পারে। আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

গত ছয় মাসে হবিগঞ্জ শহরে চুরির একাধিক ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের উদাসীনতায় অনেকেই থানায় যেতে অনিচ্ছুক।

নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. সামছুল হুদা বলেন, “নিজের ঘরেও মানুষ এখন নিরাপদ নয়।”

বিভিন্ন এলাকায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে চুরি, টমটমে যাত্রী অজ্ঞান করে লুটপাটসহ একের পর এক ঘটনায় উদ্বিগ্ন শহরবাসী।
– ৪ মে মোহনপুর, উত্তর ও দক্ষিণ শ্যামলীতে একই রাতে তিনটি বাড়িতে চুরি
– ২৪ মে রেসিডেনশিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫টি ফ্যান চুরি
– ১৭ জুন ঘোষপাড়ায় এক উদ্যোক্তার বাসায় চুরি
– ২৯ জুন ফায়ার সার্ভিস এলাকায় দিনে-দুপুরে মোটরসাইকেল চুরি

বাসিন্দাদের অভিযোগ, “রাতে ছুরি হাতে তরুণদের রাস্তায় ঘুরতে দেখা গেলেও টহল পুলিশ চোখে পড়ে না।”

ওসি শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, “তালিকাভুক্ত অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।” তিনি জানান, কিছু চোরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জনির মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। এক ব্যবহারকারী লেখেন, “চুরি, ছিনতাই, মাদক, চেতনানাশক— হবিগঞ্জে যেন প্রতিদিনের আতঙ্ক।”

ফেসবুকে নাগরিকরা যেসব দাবি তুলেছেন:

  • খুনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত
  • জড়িতদের আইনের আওতায় আনা
  • শহরে দৃশ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
  • পুলিশের ‘কথা নয়, কার্যকর ফল’ দেখানো

হবিগঞ্জবাসীর ভাষায়— “আর আশ্বাস নয়, এবার দরকার দৃশ্যমান পদক্ষেপ।”