মহাসড়ক দখল হয়ে যন্ত্রণার সড়কে পরিণত
সৈয়দ সালিক আহমেদ ॥ মাধবপুর পৌর এলাকায় যানজটে যন্ত্রণার পথে পরিণত হয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। বাস, মিনিবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার গণপরিবহন স্ট্যান্ড এই মহাসড়ক ঘিরে রেখেছে।
সড়কের দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে যানজটে নাকাল দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলা সাধারণ যাত্রীরা। এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ বলছে— শিগগিরই উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মহাসড়ক দখল করে যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। রোজ শতশত সিএনজি অটোরিকশা মহাসড়কে অবস্থান করছে। অতীতে উপজেলা প্রশাসন কয়েকবার এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও সম্প্রতি যানজট আগের রূপে ফিরেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে মাধবপুর উপজেলা সদরে গিয়ে দেখা যায়, একেকটি লেনে তিন/চারটি লাইন করে বিভিন্নধরণের যানবাহন দাঁড় করানো। সাধারণ মানুষ চলাচলের উপায় নেই। এলোপাতাড়ি যানবাহন রাখার কারণে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত যানজটে আটকা পড়ছে। সাধারণ যাত্রীরা তখন ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন।
ঢাকা যাওয়ার পথে যানজটে আটকা পড়া বাবুল মিয়া বলেন, আধাঘন্টা ধরে বসে আছি। এলোপাথাড়ি করে মহাসড়কে গাড়ি ও ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ দোকান। কোনোদিকে যাওয়ার সুযোগ নেই। একটি মহাসড়ক এভাবে চলতে পারে না।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় এক পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, আমরা কি এমনি এমনিই মহাসড়কে বসে আছি? নিয়মিত বিভিন্ন জায়গায় মাসোহারা দিয়ে এখানে ব্যবসা করছি।
কথা হলে ফুটপাতের কয়েকজন দোকানী বলেন, “আমাদের কয়েকবার উচ্ছেদ করলেও পরে ফিরে আসি। কারণ— ব্যবসা করার জন্য আমাদের স্থায়ী কোন জায়গা নেই।
পুলিশের এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, এখানকার শ্রমিক ও অন্যান্য নেতারা প্রভাবশালী। তাঁরা আমাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মহাসড়কে ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমরা কোনভাবেই মহাসড়কে যানবাহনের স্ট্যান্ড ও অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেব না। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই উপজেলা প্রশাসন, সড়ক-মহাসড়ক বিভাগ ও সেনাবাহিনী মিলে যৌথভাবে অভিযান চালানো হবে।
