“হবিগঞ্জের পরিবেশ বিপর্যয়ে শিল্পাঞ্চলের দূষণই যথেষ্ট”

“হবিগঞ্জের পরিবেশ বিপর্যয়ে শিল্পাঞ্চলের দূষণই যথেষ্ট”
“হবিগঞ্জের পরিবেশ বিপর্যয়ে শিল্পাঞ্চলের দূষণই যথেষ্ট”

স্টাফ রিপোর্টার ॥ “জীববৈচিত্র ধ্বংসে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর শিল্পাঞ্চলের অতিমাত্রায় দূষিত পানিই যথেষ্ট। সামনের দিনে এই দূষণ পরিবেশের চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।” মঙ্গলবার (১৩ মে) হবিগঞ্জে ৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়।

এই প্রতিবেদনের শিরোনাম— “পরিবশে দূষণপ্রেক্ষিত হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের নদী দূষণ।” সমীক্ষাটি করেছে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগ।

এতে বলা হয়— শৈলজুড়া খালের কাছে সুতাং নদী, রাজিউড়া ব্রিজের নীচে সুতাং নদী এবং ওলিপুর শিল্পঞ্চল এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা যায়— বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মানদ- অনুযায়ী

এসব পানিতে পিএইচ এর আর্দশ মান অত্যন্ত নীচে। যা জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ বা অনুজীবের বেঁচে থাকার জন্য কঠিন।

সমীক্ষার নমুনাসমূহের রঙ, গন্ধ, পিএইচ, বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা, মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ, এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের মান রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়— দূষিত জলাশয়ের বাইরে অবস্থান করে মানবদেহের সংবেদনশীল অঙ্গসমূহ যেখানে বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারে না, সেখানে ওই জলে বসবাসকারী জীব ও অনুজীবের অবস্থা কেমন হয় তা সহজে অনুমেয়। পরবর্তীতে প্রতিবেদনের আলোকে আইনসম্মত, প্রযুক্তিগত ও ব্যাক্তিগত উপায়ে উদ্যোগ নিয়ে এসবের কার্যকরী সমাধান বের করার সুপারিশ করা হয়েছে।

“জ্ঞান-বিজ্ঞানে করবো জয়-সেরা হবো বিশ্বময়” প্রতিপাদ্য নিয়ে হবিগঞ্জে ৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে বেলুন উড়িয়ে বিজ্ঞান মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোঃ ফরিদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান প্রমুখ। অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেছেন।

উদ্বোধন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) অমিত চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পৃথিবীর যেসকল দেশ বিজ্ঞান চর্চায় এগিয়ে সেসকল দেশ উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে। কাজেই আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি বিজ্ঞান চর্চায় মনযোগী হওয়া প্রয়োজন।

তাঁরা আরও বলেন, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্দেশ্য— নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানসচেতনতা বাড়ানো। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করা। মেলায় অভিনব প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকশিত হবে এবং বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে অসামান্য ভূমিকা রাখবে। আজকের খুদে বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র তৈরী করবে।

তিন দিনব্যাপি মেলায় জেলার ৯টি উপজেলা থেকে ৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দর্শকের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে।