জলাশয়ে কিশোরের মরদেহ গায়ে মেয়েদের জামাকাপড়
শিব্বির আহমদ আরজু, বানিয়াচং থেকে ॥ বানিয়াচঙ্গে নিখোঁজের একদিন পর হাওর থেকে মঈনুল ইসলাম (১২) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে উপজেলার দোয়াখানী মহল্লার বোরো হাওরের একটি ছোট জলাশয়ে স্থানীয়রা মঈনুলের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
মঈনুল উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের দোয়াখানী মহল্লার আতিকুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় দোয়াখানী দারুস সালাম মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইমরান আহমেদ জানান, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকে মঈনুল নিখোঁজ ছিল। গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয়রা হাওরের জলাশয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের পড়নে নারীদের সালোয়ার কামিজ ছিল এবং পেট বাঁধা অবস্থায় ছিল।
বানিয়াচঙ্গ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, দোয়াখানী মহল্লার লোকজন রাত ৯টায় একত্রিত হয়ে এ বিষয়ে একত্রিত হন। মেয়েদের জামাকাপড় পড়নে থাকাসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে তারা আলোচনা করেন এবং মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য পুলিশের প্রতি দাবি জানান।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার প্রবাশ কুমার সিংহ বলেন, “ছেলেটির পড়নে মেয়েদের কাপড়চোপড় ছিলÑ এজন্য ঘটনার পেছনে কিছু একটা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মৃত্যুর কারণ উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে।”
জানা গেছে, মঈনুল ইসলাম দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড়। তাঁর শিক্ষক হাফেজ মাহবুব আল রাশেদ জানান, মঈনুল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। ইতোমধ্যে সে পবিত্র কোরআনের পাঁচ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে।
