প্রকল্পে বিলাসিতা-অনিয়ম

প্রকল্পে বিলাসিতা-অনিয়ম

হবিগঞ্জ শহরে ১৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ড্রেনের স্ল্যাবের ওপর স্থাপন করা সৌন্দর্য্যবর্ধক টাইলস মাস পার না হতেই উঠে গেছে। বালু ও সিমেন্টের সঠিক মিশ্রণ না হওয়ায় পায়ের ঘষাতেই টাইলস সরে যাচ্ছে, আর অনেক স্থানে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ শুধু বালুর উপর টাইলস বসিয়ে দেওয়ায় সৌন্দর্য্যবর্ধক এই প্রকল্পের বেহাল অবস্থা হয়েছে। এছাড়া সড়কে খান্দখন্দ রেখে ড্রেনের স্ল্যাবের উপরে টাইলস বসানো অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

হবিগঞ্জ পৌরসভার মাধ্যমে এলজিসিআরআরপি কোবিড-১৯ প্রকেল্পর অধীনে বিভিন্ন স্থানে ৯৯৫ মিটার জায়গায় স্ল্যাবের উপরে ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৭৩০ টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্য্যবর্ধক টাইলস স্থাপনের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামাল এন্টারপ্রাইজ। এই প্রকল্পের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ আগামী ৩০ ডিসেম্বর। তবে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গার টাইলস উঠে গেছে, কোথাও ভেঙে পড়ছে।

সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার সামনে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জায়গায় টাইলস ভেঙে ও খসে পড়েছে। পথচারীরা জানান, নীচে শুধু বালু দিয়ে টাইলস বসিয়ে রাখা হয়েছে। সিমেন্ট না মেশানোয় এই অবস্থা হয়েছে।

একইচিত্র বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় “আল আমিন ফুড” এর সামনে ও আদালতের প্রবেশপথেও। স্থানীয়রা বলেন, পৌরসভার অলিগলিতে সড়কে খানাখন্দ। সেগুলো মেরামত না করে ড্রেনের স্ল্যাবে টাইলস বসানো সরকারি অর্থ নিয়ে বিলাসিতা করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বৃষ্টির সময় ড্রেনে যখন ময়লা জমে থাকবে তখন পৌরসভা কি করবে? প্রশ্ন রেখে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, “যারা এই প্রকল্প তৈরী করেছে তাঁদের সৌন্দর্য্যবর্ধন সংক্রান্ত দক্ষতার অভাব রয়েছে। তা না হলে এমনটি তারা করতেন না।”

কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠার ব্যাপারে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ পৌরসভার বদলীর আদেশপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীক মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, “কাজ ভাল হয়েছে, এর বাইরে আমার আর কোন কথা নেই।”

পৌর প্রশাসক মোঃ মঈনুল হক বলেন, “আমরা কোনরকম দুর্নীতি করি না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। অতএব যতক্ষণ ঠিকাদারী কাজের গুণগত মান ঠিক না করবে ততক্ষণ কাজের বিল পরিশোধ করা হবে না।”