তরুণীর ক্ষতবিক্ষত দেহ রাস্তায় ফেলে কেন পালালেন চালক?

তরুণীর ক্ষতবিক্ষত দেহ রাস্তায় ফেলে কেন পালালেন চালক?
তরুণীর ক্ষতবিক্ষত দেহ রাস্তায় ফেলে কেন পালালেন চালক?

প্রধান প্রতিবেদক ॥ মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকচাপায় তরুণীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। কারণ দুর্ঘটনার পরপরই মোটরসাইকেল চালক মরদেহ রাস্তার মাঝখান থেকে টেনে পাশে রেখে পালিয়ে যান; এতে দুর্ঘটনাটিকে ঘিরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নিহত সুজিনা আক্তার (২০) হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মানিক মিয়ার মেয়ে। নিয়মিত যাতায়াত করতেন হবিগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে। গত শুক্রবার

সকালে বের হওয়ার সময় বলেছিলেন, সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরবেন। কিন্তু ফিরে তার মরদেহ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাইপাস রোডে হবিগঞ্জমুখী মোটরসাইকেলটি পোদ্দারবাড়ি এলাকায় হঠাৎ বেপরোয়া মোড় নিতেই সুজিনা ছিটকে পড়েন। ঠিক ওই সময় পেছন থেকে আসা ট্রাক তাকে চাপা দেয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর মোটরসাইকেল চালক তরুণীর চ্যাপ্টা ও বিকৃত মরদেহ রাস্তার মাঝ থেকে সরিয়ে পাশে রাখেন এবং দ্রুত সটকে পড়েন। সেই থেকেই তিনি পলাতক।

স্থানীয় ঠিকাদার সোহেল আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেল চালকের একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে তিনি দেখেছেন- ছেলেদের হ্যান্ড গ্লাভস, ক্যাপ ও পানির বোতলসহ কিছু সরঞ্জাম ছিল তাতে। কাছেই ছিল মেয়েটির ব্যানেটি ব্যাগ; তার মধ্যেই পাওয়া গেছে মোবাইল ফোন।

তবে পুলিশ দাবি করছে ভিন্ন কথা- তাদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলে কোনো ছেলের ব্যাগ পাওয়া যায়নি; শুধু মেয়েটির ব্যাগ ও ফোন পাওয়া গেছে।

সদর মডেল থানার এসআই প্রদীপ রায় জানান, ঘটনাস্থলে কোনো যানবাহন, চালক বা তার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে অপমৃত্যু বা সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হবে। তিনি আরও জানান, সুজিনা অবিবাহিত ছিলেন।

এখন প্রশ্ন? মোটরসাইকেল চালক কে? তার পরিচয় এখনও অজানা কেন? এক পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা, তিনি হয়তো মেয়েটির ভাই বা পরিচিত কেউ। কিন্তু যদি তাই হয়, তাহলে তিনি কেন পালালেন? সামান্যতম দায়িত্বশীল আচরণও দেখা গেল না কেন?

প্রত্যক্ষদর্শী ঠিকাদার সোহেলের ভাষ্য- ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা থাকতে পারে। আর সুজিনার মোবাইল ফোনের কললিস্টই হয়তো উদঘাটন করতে পারে সেই মোটরসাইকেল চালকের পরিচয়।