রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের ওয়াচ টাওয়ারে জীবনঝুঁকি

রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের ওয়াচ টাওয়ারে জীবনঝুঁকি
রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের ওয়াচ টাওয়ারে জীবনঝুঁকি

সৈয়দ সালিক আহমেদ ॥ চুনারুঘাটে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ওয়াচ টাওয়ার। প্রতিদিন এই অভয়ারণ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হরিণ, বানর, হনুমান, পাখি ও বিরল প্রজাতির প্রাণী দেখতে আসেন শতশত দর্শনার্থী। কিন্তু ওয়াচ টাওয়ারের পিলারসহ বিভিন্ন অংশ খসে পড়ার কারণে ভয়ে কেউ সেখানে উঠতে চান না।

পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় যেকোন সময় ঘটতে পারে বড়

ধরণের দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার ও অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে টাওয়ারের উপরে উঠে রেমা-কালেঙ্গার অপরূপ দৃশ্য দেখার সাহস করেন না পর্যটকরা। প্রায় ১৭৯৫ হেক্টর আয়তনের এ বনভূমি বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের চারটি বিটের (কালেঙ্গা, রেমা, ছনবাড়ী ও রশিদপুর) মধ্যে। রেমা-কালেঙ্গা ও ছনবাড়ী বিস্তীর্ণ জঙ্গল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গঠিত। অভয়াশ্রমে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী, উভচর ও পাখি। এছাড়া ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মও আছে।

সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন থেকে অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার রাস্তা লতাপাতায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার রাস্তা কোনদিকে। পাঁচতলা ওয়াচ টাওয়ারের মূল পিলার থেকে ইট, বালি ও সিমেন্ট খসে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। এছাড়াও সিড়ি এবং নিরাপত্তা বেষ্টনিসহ বিভিন্ন অংশে ফাটলসহ ধ্বস নেমেছে। জীবনের ভয়ে লতাপাতা ছিড়ে পর্যটকরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠতে সাহস পান না।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রবিন হাওলাদার বলেন, ওয়াচ টাওয়ারের পাদদেশে বা উপরে কোথাও ঝুঁকির বিষয়ে কোন সর্তকবার্তার সাইনবোর্ড নেই। ফলে অনেকে বাস্তব অবস্থার ধারণা না নিয়েই উপরে উঠেন এবং পড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেতে পারে।

নারী পর্যটক নীলিমা রহমান বলেন, ঢাকা থেকে এসেছি রেমা-কালেঙ্গা দেখার জন্য। ইতোমধ্যে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। একনজরে পুরো এলাকা দেখার জন্য ওয়াচ টাওয়ারে উঠতে গিয়ে ভয়ে চলে এসেছি। একটু উপরে উঠার পর মনে হয়েছে পুরো টাওয়ারটি নড়ছে। উপরে উঠার সিড়িতে কোথাও নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রেমা-কালেঙ্গা দেশের একটি সম্ভাবনাময় ইকো ট্যুরিজম অঞ্চল। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁঁকিপূর্ণ ওয়াচ টাওয়ারটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা জরুরি। তা না হলে সুন্দর এই বনভূমিতে পর্যটকদের আগ্রহ ও নিরাপত্তা-দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা বিন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান জানান, তিনি নতুন এসেছেন, ওয়াচ টাওয়ারের বিষয়টি অবগত নয়। বিষয়টি সরেজমিন দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

তবে সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্ভাবনাময় ইকো ট্যুরিজম এলাকাটি এমন অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকার দ্বায় বন বিভাগ এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।