হবিগঞ্জ প্রাণীসম্পদ অফিসে ‘হরিলুট’
সৈয়দ সালিক আহমেদ ॥ হবিগঞ্জে জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরে চলছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। একজন অফিস সহকারি দিয়েই চলছে পুরো জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল। অথচ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও গাড়ি মেরামতের নামে এ প্রতিষ্ঠানে বছরে ব্যয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে। তবু গাড়ি মেরামত, তেল এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা। ওই দুটি ক্যাম্পেইনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ শতাধিক গবাদিপশুকে।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, “জেলা অফিসে সরকারি কোনো গাড়ি না থাকায় উপজেলা অফিসের গাড়ি ব্যবহার করি। তেলের খরচ আমার অফিস থেকেই বহন করা হয়।”
কিন্তু উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, একই গাড়ির জন্য তাদের খাতেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৯ হাজার ২শ টাকার তেল খরচ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ, জেলা অফিস কখনো এই গাড়িতে তেল সরবরাহ বা সমন্বয় করেনি। তারা উপজেলা অফিসের গাড়ি এবং তেলই ব্যবহার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাড়িটির নামে তেল উত্তোলন করা হয়েছে দুই দপ্তর থেকেই। একবার জেলা অফিস থেকে, আবার উপজেলা অফিস থেকে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত কাজেও ওই গাড়ি ব্যবহার করেন ডাঃ কাদের।
জানা যায়, জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে সার্জনসহ মোট ৫টি পদ থাকলেও বর্তমানে কেবল একজন অফিস সহকারী রয়েছেন। নেই চিকিৎসা কার্যক্রম, তবু রাজস্ব খরচ দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৪শ টাকা।
অথচ জেলা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গাড়ি মেরামতের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু খরচ দেখানো হয়েছে কয়েকগুণ বেশি।
এছাড়া বানিয়াচং উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও সেখানে সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন যান তিনি। ওই উপজেলার গাড়ির তেল বাবদ চলতি অর্থবছরে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অফিস সহকারি তারাপদ দাস বলেন, “সব বিষয়ে স্যারের কাছেই জানতে হবে।”
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে ডাঃ কাদেরের ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি এক প্রকার ‘বলয়’ তৈরি করে এককভাবে অফিস চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সুজন হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য মোঃ বাহার উদ্দিন বলেন, “যেখানে সেবা নেই, সেখানে খরচ কিভাবে হয়— তার তদন্ত হওয়া জরুরি। সরকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যদি লুটের কেন্দ্রে পরিণত হয়, তবে তা দুর্ভাগ্যজনক।”
জানতে চাইলে ডাঃ মোঃ আব্দুল কাদের দাবি করেন, “হাসপাতালের গাড়িটি মেরামতের জন্য বরাদ্দ ৩০ হাজার টাকা থাকলেও খরচ হয়েছে তারচেয়ে বেশি। দুটি ক্যাম্পেইনের কাজ এই গাড়ি দিয়েই করা হয়েছে। তবে তেল খাতে খরচ আমাদের অফিস থেকেই সমন্বয় করা হয়েছে।”
তবে তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, কথিত ‘সমন্বয়’ কোথাও হয়নি; বরং বরাদ্দের আড়ালে হয়েছে লুটপাট।
