১৬ কোটি টাকার মডেল মসজিদে ৩২ ত্রুটি

১৬ কোটি টাকার মডেল মসজিদে ৩২ ত্রুটি
১৬ কোটি টাকার মডেল মসজিদে ৩২ ত্রুটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১৬ কোটি টাকায় নির্মিত হবিগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অসংখ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়েছে। উদ্বোধনের কয়েকমাসের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা এই মসজিদ পরিদর্শন করে ৩২টির বেশি ত্রুটি খোঁজে পায়। পরে এগুলো মেরামতের জন্য সরকারে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়।

ত্রুটিযুক্ত কাজের মধ্যে রয়েছে— সীমানা প্রাচীর, মসজিদের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা, দ্বিতীয় তলার অফিস ব্লক, ছাদ ও গম্বুজসহ নানা অংশ।

সীমানা প্রাচীর

দক্ষিণ ও পশ্চিমের সীমানাপ্রাচীর অসম্পন্ন থাকায় অনাকাক্সিক্ষতভাবে অভ্যন্তরে গবাদী পশু প্রবেশ করছে। ফলে মসজিদের পবিত্রতায় ঘাটতি ও পানি উত্তোলনের পাম্প অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

প্রথম তলা

প্রশিক্ষণ ও সভাকক্ষের বৈদ্যুতিক পাখা লোকজনের হাতে লেগে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। বিক্রয় কেন্দ্রের প্রধান দরজা, এসএস পাইপ ও ফিটিংস যথাযথ না হওয়ায় এখানেও দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। এছাড়া গেটের ভেতরের দিকে বিট না দেওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি প্রবেশ করবে এবং তালা ঝুলানোর কড়া বাইরে থেকেই খোলা যায়; যা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে অফিস গেটের আর্চসহ বেশ কয়েকটি জানালার উপরে।

দ্বিতীয় তলা

আলমিরাতে সিটকিনি দেওয়া হয়নি, এতে ব্যবহৃত কাঠ বাঁকা ও ফাঁকা এবং কাঠের কাজে বার্ণিশ নেই; দেওয়া হয়েছে বেনামী সাউন্ড সিস্টেম। এছাড়া পিলারে বসানো লাইটিং খোলা রাখা হয়েছে বিধায়— বাল্বগুলো বিকল হয়ে যাচ্ছে। ত্রুটির মধ্যে আরও আছে— মেঝের মার্বেলপাথরে ফাঁটল, এসির অ্যাঙ্গেলগুলো মরিচা ধরা, প্রতিবন্ধীদের জন্য স্থাপন করা আউটপুট ও ডেলিভারী লাইনে জ্যাম থাকায় মেঝেতে থইথই পানি জমে থাকে। মূল্যবান কাঠের দরজার স্থলে লাগানো হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচ ইত্যাদি।

দ্বিতীয় তলার অফিস ব্লক

টয়লেটের দরজা কমোডের ফ্লোরে আটকে থাকে; দরজা খোলা যায় না এবং ইতোমধ্যেই দরজার আংশিক ভেঙে গেছে। দ্বিতীয় বাথরুমের ফ্লোর করিডোর থেকে উঁচু হওয়ায় বাথরুমের ময়লা করিডোরে জমা হয়ে থাকে। নারীদের নামাজ কক্ষের দেয়ালে ফাঁটল, পুরুষদের নামাজকক্ষে ফ্যান প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, এসি নেই এবং পাঠাগারে গ্রীল ব্যবহার না করায় নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

ছাদ ও গম্বুজ

ছাদে প্রবেশের দরজা নিম্নমানের, পুরাতন জং ধরা, গম্বুজের চারদিকে ফাঁটল, চালায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ট্রান্সপারেন্ট সীট নিম্নমানের হওয়ায় টুকরো টুকরো হয়ে খসে পড়ছে; গম্বুজের উপরে একটি গর্ত রয়েছে— যা ছাদসহ পাশের সংযোগসমূহ ডেমেজের কারণ। এছাড়া ছাদে ব্যবহৃত সিমেন্টের পলেস্তারা উঠে যাচ্ছে। ফলে ছাদ ডেমেজ হয়ে যেতে পারে।

বিবিধ

মসজিদের কয়েকটি অংশে গ্রীলবিহীন ওরনামেন্টাল গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে; যা নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণ হতে পারে। লাশ ধোয়ার ঘর এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে বিধায়— লাশ ধোয়া পানি চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। বাথরুম, বেসিন ও ওজুখানায় নিম্নমানের ফিটিং। এছাড়া অসংখ্য কাজে ব্যবহৃত ফিটিংয়ের গর্তগুলো উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণ কাজ শেষে হস্তান্তরের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে চিঠি দেয়। কিন্তু অসংখ্য ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন সেটি গ্রহণ করছে না।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন হবিগঞ্জের উপপরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুজ্জামান খোয়াইকে বলেন, ‘১৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পে এত ত্রুটি কাজে দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। এগুলো পুনরায় সংস্কার করে না দিলে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না বলে আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছি।’